Home / Tour & Travel / রহনপুরের অষ্টভূজাকার সমাধিসৌধ (Octagonal Mausoleum of Rohonpur)
রহনপুরের অষ্টভূজাকার সমাধিসৌধ

রহনপুরের অষ্টভূজাকার সমাধিসৌধ (Octagonal Mausoleum of Rohonpur)

রহনপূর পৌঁছুতে পৌঁছুতে শেষ বিকেলে। আলো কমে এসেছে। যে রিকসাওয়ালাকে নিয়ে নওদা বুরুজ দেখতে গেলাম সে এ নামে চিনে নাই, চেনার কথাও না। তাকে বর্ণনা দিয়ে চেনাতেও বেশ কষ্ট হলো। তবে চিনলো। (নওদা বুরুজকে এ এলাকার মানুষ চিনে ষাড় বুরুজ নামে। সে গল্প আরেকদিন হবে।) নিয়েও গেলো। রহনপুর বর্ধিষ্ণু গঞ্জ। চারপাশে নতুন নতুন বাসাবাড়ি হচ্ছে। তারই মাঝে একটি প্রাচীন পুকুরের পাড়ে এই স্থাপনার অবস্থান। শুনলাম আগে নাকি চারপাশের চাষের জমি ছিলো। জমি চষলেই নাকি আগেকার যুগের ইট, পোড়ামাটির জিনিসপত্র উঠে আসতো।

প্রাচীন এ সমাধিসৌধটি স্থাপত্য শৈলীগত দিক থেকে মুঘল রীতিতে নির্মিত বলে অনুমিত। তবে কি উদ্দেশ্যে ভবনটি নির্মিত হয়েছিলো তা পরিস্কারভাবে জানা যায়নি। স্থানীয়ভাবে ধারনা করা হয় এটি কোন সমাধি সৌধ ছিলো। অবশ্য বর্তমানে শবাধারের কোন আলামত বা চিহ্ন চোখে পড়লো না। যদিও তালাবদ্ধ ছিলো কিন্তু ভেতরে একটা চৌকি দেখে বুঝা গেলো কেউ একজন ভেতরে থাকেন। ঐতিহাসিক আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া ইমারতটিকে একটি মাজার বলে উল্লেখ করেন।

সময়ের বিচারে এটি বাংলার মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাসে সর্বপ্রথম অষ্টভূজি ভবনের নিদর্শন। পরবর্তিকালে এ বৈশিষ্টের পুনরাবৃত্তি দেখা যায় রাজমহলের বেগমপুরের অষ্টভূজি সমাধী সৌধে, যা এখন পর্যন্ত বাংলায় এ জাতীয় ভবনের সর্বশেষ উদাহরন হিসেবে গণ্য। এ জাতীয় ভবনের ধারনাটি সম্ভবতঃ তুঘলক, সৈয়দ ও লোদী যুগে নির্মিত অষ্টভুজ সমাধী সৌধ থেকে এসেছে। মিহরাবের উপস্থিতি ভবনটিকে সমাধী সৌধ হিসেবেই বিবেচনার ইঙ্গিত প্রদান করে। সুতরাং এটি যে একটি প্রাচীন মাজার বা সমাধীসৌধ তা নির্দিধায় বলা যায়।

রহনপুর, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ঢাকা থেকে গোমস্তাপুর এর ডাইরেক্ট বাস আছে। সেখানে পৌছে ভ্যান নিতে হবে।

 

Source: Travelers of Bangladesh (ToB) posted by Apu Nazrul

About Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *